Sunday, August 11, 2013

ক্যাথারসিস্

একটা বন্ধ ঘরে আমি অন্ধকার খুঁজি;
আমার এক হাতে দেশলাই, অন্য হাতে তুমি।

একটা নিশ্চিণ্হ শ্মশানে আমি জীবন কুড়োই;
আমার এক হাতে পেনিসিলিন, অন্য হাতে হেমলক।

এক পশলা বৃষ্টিতে ভিজে আমি প্রত্যক্ষ করি আমার ক্যাথারসিস্;
আমার এক হাতে ব্লটিং পেপার, অন্য হাতে লিটমাসে সিন্থেসিস্।

এক গাল শ্মশ্রুতে আমি যীশাস্ হতে চাই;
কিন্তু আদতে এক গালে আমি মৌলবি, অন্য গালে আমি ফুকো।

একটা নিঃসঙ্গ সন্ধ্যেতে আমি দুস্মন্ত হয়ে হঠাৎ শকুন্তলাকে চাই;
আমার এক হাতে অপারগতা, অন্য হাতে লেগে থাকে সিঁদুর।

একটা সাদা কাগজে আমি শব্দ হয়ে কবিতার বেশে জন্মাই;
আমার আর্দ্ধেকটা নীল কালিতে ভেজে, বাকি আর্দ্ধেকটা শুধু তোমার জন্য রাখি।

আমি কাফকার নাটকের গ্রেগর সামসা;
আমর বহিঃরঙ্গ পতঙ্গের, কিন্তু মনটা তো মাণুষের।

আমি মনখারাপে তুলি ডুবিয়ে কল্পনার ক্যানভাসে ছোঁয়াই;
কিছুটা হয় জলছবি আর বেশীটাই হয় কান্না।

কয়েক পেগ নীট খেয়ে আমি নেশার আতান্তরে নিজেকে খুঁজি;
কোথায় আমি? অর্ধেকটা দেখি...আর বাকি অর্ধেকটা?

Tuesday, July 30, 2013

She Sickness

আমার সকল অঝোর নির্ঝরের
উপকেন্দ্রের কেন্দ্রবিন্দু ছিলিস তুই।
আমার যে কম্পন রিখ্টার স্কেলে
মাপতে পারতাম না, জনবহুল
শহরে এক লহমায় মেপে দিতিস তুই।

মনের আলতামারির অন্দরমহলে
পাথর খোদাই করে যে ছবি আঁকতাম
তার ক্যানভাসে তোকে হারাতাম।
সাম্যবাদী থেকে ভোগবাদী সকল
বাদের বাঁধ সাধতিস তুই...
ঘোর লেগে যাওয়া চোখে যখন
দূরবীন লাগাতাম...আনকোরা
নাবিকের মতন সামুদ্রিক ঝড়ে সময়ের
ঘুণপোকা মূলমধ্যরেখা থেকে সরে যেত।


তখন কম্পাসের এক দিকে তুই
অন্য দিকে আমি...আর বাকিরা
অবিরাম সাদা কাগজে সারা জীবন
এঁকে যায় আর দেখে আদৌ তোর-
আমার কোনোদিন দেখা হওয়া সম্ভব
কিনা...বহুদূরে কোনোও নিরালায়...
অন্য অনেকের থেকে অনেক...অনেক দূরে।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং

আমার সার্বিক উষ্ণায়ণে তোকে স্বাগত।
তোর উপস্হিতিতে আমার উত্তর মেরুতে
জমে থাকা বরফ গলে গতিপথ পাল্টে
দু-গাল হয়ে অজানা নাম নিয়ে বয়ে
চলে টেথিস সাগরের দিকে।

মাঝের শীতল যুগে আমার দেহে
জমে থাকা হিমবাহের চূর্ণ-বিচূর্ণতা
কান পেতে শুনতাম...তখন বহুদূরে
কোনোও বলাকা হতে জায়মান ঘাসেদের
নিবিড়তা বাড়াত মোহময়তা।

ভেঙে যাওয়া বরফের টুকরোতে
তুই কি আজ শুধুই মিথেন খুঁজে পাস?
অনুভবে কি আসে না আমার দীর্ঘশ্বাস?
তোকে আমার দুটি প্রশ্ন - তুই কি
সত্যিই আসতিস এ ভাবে কারও
তোয়াক্কা না করে যে ভাবে তুই
চলে এলি? নাকি আমার বহুস্তরীয় মনের
একটি বিশেষ স্তর আজ ক্রমাগত
দুর্বল হয়ে পড়ায় তুই স্বতঃর্স্ফূততায়
দাঁড়ি দিয়ে বাধ্যবাধকতার নিজস্বঃ নিয়মে
আজ হঠাৎ এসে পৌঁছলি?


আমি কিন্তু তোকে সইতে পারি...
যে কোনো দিন ই পারি...আর সেই
জন্যই বোধহয় প্লাবন আসে।



NOTE :

তুই = UVR
অথবা তুই = অন্য কেউ, কে?

Wednesday, April 24, 2013

কাঁটা তার

কোনো এক সময়ের কালবেলায়
এলোমেলো, অগোছালো তৈরী হওয়া
অনুভূতিগুলো দিকভুল করে থমকে
দাঁড়ায় তোমার-আমার তৈরী সীমানার
এ ধারে উঁচু-উঁচু বাড়ির স্হাপত্য
সিমেন্টের কাঠিন্যতে ধাক্কা খেয়ে
পাক খেয়ে মনের পাকদন্ডী বেয়ে
নেমে আসে দেবদারু আর ফার্ণের গাল চুঁইয়ে।


তাই আমি আর একবারও ভাবিনি
কেন আর একবারও আমি ফিরে
তাকালাম না। কেন আমি আর পৌঁছে
দিলাম না ঝলসে যাওয়া সেই
সন্ধ্যেগুলো পেড়িয়ে সব কাঁটাতার।
আমি জানতে চাইনি অহেতুক
কিছু প্রশ্নের গাঢ়ত্ব। রাখতে চাইনি
হৃদয়কে আর একবারও দ্রবীভূত করে
তোমার ভালোবাসার আর্দ্ররসে।


কত শত ধূলো পথ হারায়
আপন পথে আর পোস্টকার্ডের
হলুদ ছড়ায় আকাশে...আর
আমি আক্রান্ত হই তোমার
ভালোবাসার পীতজ্বরে। সব
মহাজাগতিক ইচ্ছেগুলো বয়ে যায়
আমার থেকে তোমাতে পেড়িয়ে
সেইসব দিন-রাত যেগুলো
সত্যি খুব তাড়াতাড়ি আসত।

Friday, March 22, 2013

শেষপর্ব

তোকে বলতে পারিনি
যে আমি আসলে
নীলকন্ঠ হয়ে সব
বিষ শুষে নিতে নিতে
তোর কন্ঠের কাছে
আমার শুকনো ঠোঁট
রেখে ক্লান্ত হয়ে কখন
ঘুমিয়ে পড়েছি-আমার
কিছুই আর মনে নেই।


ঘুম থেকে জেগে উঠে
দেখি আমার বিছানা পাশে
ফুটে আছে শত শত
বিষফুল-আর তাদের
শিকড়ের গভীরে আমার
চিন্তাবীজগুলো আপন
অস্তিত্ব সংকটে ভয়ানক
ম্যালিগ্ন্যান্টে পুড়ে
ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে।


প্রতারণার ইতিহাস করুণ
বটে - তবে প্রতারিতরা
আঁকড়ে ধরেন শরৎচন্দ্র-
আমি মাঝ সমুদ্রে
তাই বাধ্য হয়ে
কলম চেপে ধরে
ভাবি ভাগ্যিস তোর
ঠোঁট থেকে আমার ঠোঁটের
দূরত্ব ক্রমবর্দ্ধমান
নইলে হয়ত ক্লস ফুকসের
মতন পলমলের প্যাকেটে
তোর - আমার নাম লিখে
দেশান্তরে পাড়ি দিতে হত।

Saturday, January 26, 2013

ছাড়িয়ে যাওয়া

আমি চলে যেতে পারতাম
পাথরের পথ ধরে সোজা
দিগন্ত পেরিয়ে তোমার বিপরীত গোলার্ধে...
যাইনি কারণ তুমি কোনো
একদিন বলেছিলে আমি
নাকি দিকভ্রান্ত।

আমি চলে যেতে পারতাম
বাকি আর সব কিছুকে 'দূর-ছাই'
বলে। যাইনি কারণ শ্মশানে
মধ্যরাত্রে রতিক্রিয়ায় আমার
দেহাবশেষ শূণ্যের পর দশমিক খোঁজে।

আমি ইচ্ছে করলেই চলে যেতে পারতাম
মহানদী পেড়িয়ে প্রত্যন্ত কোনো
গ্রামে...পারিনি কারণ লাল মাটির রং
কি কারও মন খারাপের থেকে নেওয়া?

আমি এখনও ইচ্ছে করলেই চলে
যেতে পারি...অনেক...অনেক
দূরে কোথাও কিন্তু পারিনা
কারণ আমি আরও অনেকের
মত বলতে পারিনা 'বেশ হত
যদি চলে যেতে পারতাম'।

তাই ইচ্ছে থাকলেও স্বাবলম্বী
ভালোবাসার যতিচিণ্হে নিজেকে
শুইয়ে দিই। আমার অনুভবের
আত্মশ্লাঘায় ও তীব্র শ্লেষ সাদা-কালো
ছকের ঘরের আগে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে।
তুমি তাদের আটকে দিয়েছ
প্রেমের কিস্তিমাতে।

Monday, January 7, 2013

খতিয়ে দেখা ক্ষত

আমি ছিলাম প্রেমের উপাসক।
আর তুমি উপাসনা গৃহ থেকে কক্ষচ্যুত
হয়ে নিকষ কালোতে গিয়ে মিশেছিলে।
আমার ভালোবাসার ব্যকরণগত ও তাত্ত্বিকগত
ত্রুটিগুলি খুঁজে বার করে তুমি
তখন জলছবি তৈরী করেছিলে।
আমি অঙ্ক কষতে বসেছিলাম...
কেন জানিনা ভালোবাসাকে লবে রেখে
হৃদয়কে হরে বসালে
আজও ভগ্নাংশে উত্তর পাই।


তুমি চেয়েছিলে একটু আড়াল
আমি আড়াল খুঁজতে গিয়ে
হারিয়েছিলাম তোমার চোখের
কৃষ্ণগহ্বরের অতলে।
তোমার ভালোবাসার অভিকর্ষে
হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম তেপান্তরের ওপারে।


আমার সারা শরীরে ছিল সিন্ধু সভ্যতার
আদিম গল্প।
কিন্তু তুমি ছিলে আধুনিক যুগের উত্তরসূরী,
যেতে চেয়েছিলে সময়ের বিভ্রাটকে সাক্ষ্মী রেখে।
আমার দ্বিধাবিভক্ত মনকে রেখে
এসেছিলাম বসফরাসের পারে-
দুই মহাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

এরপর আমি ছায়াপথ ধরে
যাত্রা করে জীবণপথ পাল্টে
খড়কুটোর প্রাসাদ বানাই।
সামনে শুধু পড়ে থাকে
পৃথিবীর গভীরতম দুঃখ আর
জটিলতম উপপাদ্য।
দিনের শেষে সকল অভিযোগেরা
একে একে যখন ঘরে ফিরে আসে
আর শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে
তখন আমার বাতুলতায় প্রশ্রয় পায়
সারা পৃথিবীর সকল কাঙাল।
আর আমি তুলি হাতে প্রলেপ
দিই তাদের ভালোবাসার ক্ষতয়ে।